ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবিক মূল্যবোধ আর কত নিচে নামবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-২৪ ১০:৩৩:৪৬
মানবিক মূল্যবোধ আর কত নিচে নামবে মানবিক মূল্যবোধ আর কত নিচে নামবে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালে সস্ত্রীক হজ পালনের সৌভাগ্য হয়েছিল। তার আগেও হজ এবং ওমরায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। বায়তুল্লাহ ও মহানবী (স.)-এর রওজা জিয়ারতের আকাঙ্ক্ষা শেষ হওয়ার নয়। বিশেষত হজ মৌসুম এলেই চোখের সামনে সবকিছু ভেসে ওঠে। মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফাহ, সাফা-মারওয়া, মদিনার শান্ত-শীতল পরিবেশে মসজিদে নববী, জান্নাতুল বাকি—সবকিছুই প্রচণ্ডভাবে টানে। তখন স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। মনটা বারবার ছুটে যায় রাসুলে পাক (স.)-এর রওজা মোবারকের পাশে রিয়াজুল জান্নায়। কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে মিল করা তো অত সহজ নয়।

পবিত্র ভূমি মক্কা মুকাররমা এখন লাখ লাখ হাজির পদচারণে মুখর। হজের আনুষ্ঠানিকতা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বের আনাচে-কানাচ থেকে সমবেত আল্লাহর ঘরের মেহমানরা এখন মিনার তাঁবুতে সমবেত। মঙ্গলবার মিনা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন হাজি সাহেবরা। দেখা যাবে শুভ্র-পবিত্র এক অপরূপ দৃশ্য। পরে এ ময়দান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। শয়তানের উদ্দেশে নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে। মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন। মিনায় এসে বড় শয়তানের উদ্দেশে সাতটি পাথর মারবেন, দমে শোকর বা কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে গোসল করবেন এবং এহরাম বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মসজিদুল হারামে গিয়ে কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। এ ছাড়া সাফা-মারওয়া সাঈ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। তাওয়াফ ও সাঈ শেষে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যতদিন থাকবেন, ততদিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানের উদ্দেশে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। এভাবেই হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

বুধবার সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা। বাংলাদেশে হবে বৃহস্পতিবার। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। মহান আল্লাহতাআলার সন্তুষ্টি বিধানের লক্ষ্যে পশু কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য হলো সব লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, স্বার্থপরতা তথা ভেতরের পশুত্ব ত্যাগের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি অর্জনের প্রয়াস। আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়। তবে তার পরের দুদিন, অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে।

নিজের পালন করা সবচেয়ে ভালো পশুটি কোরবানি করাই উত্তম। তবে বাস্তবতার কারণে এখন সবার পক্ষে পশু পালন করা সম্ভব হয় না। সে কারণে পশু কিনতে হয়। কোরবানিদাতারা সাধারণত দু-একদিন আগেই পশু কিনে বাড়িতে এনে লালন-পালন, যত্ন-আত্তি করে থাকেন। বাড়ির ছোটরা আনন্দে মেতে ওঠে পশু পরিচর্যায়। শহরে গবাদিপশুর বিপুল সমাবেশ, তাদের হাঁকডাক, খড়বিচালি, কাঁঠালপাতা, কাঁচা ঘাস নিয়ে মানুষজনের ছোটাছুটি—এসবের মধ্য দিয়ে কোরবানির সপ্তাহখানেক আগে থেকেই নাগরিক পরিবেশে বেশ অন্যরকম আবহ সৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু পাঁচদিন আগে শনিবার পর্যন্ত ঈদের তেমন একটা আমেজ চোখে পড়েনি।

তবে ঈদ উদ্‌যাপন করতে চিরাচরিত পন্থায় বাস, ট্রেন, লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। ঈদের আগে সর্বশেষ সরকারি অফিস খোলা থাকছে আজ রোববার। রাজধানী থেকে সবরকম যানবাহনে উপচেপড়া ভিড় আর ঘরমুখো মানুষের স্রোতের মেতো ছুটে চলা চোখে পড়ে গতকাল থেকেই।

ঈদ মানে আনন্দ এবং ঈদুল আজহার প্রধান বাণী আত্মত্যাগের, যা হবে মানুষের কল্যাণে। ছোটবেলায় বিভিন্ন পরীক্ষায় ‘কোবানির ঈদ’ ও ‘ত্যাগের মহিমা’ নিয়ে রচনা লিখতে হয়েছে বহুবার। ত্যাগ যে শুধু ব্যক্তির নয়, সমাজের, এবং সমাজ থেকেও বড় যে কাঠামো, অর্থাৎ রাষ্ট্রেরও, সে কথাটাও রচনায় ব্যাখ্যা করতাম।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ